
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন আহ্বান ও প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে তা কতটা টেকসই হবে, সেটিও গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিমধ্যে প্রধান মন্ত্রীর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একটি টেকসই পদ্ধতি: জাতীয় কৌশল ও বাহ্যিক অবদানের রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সেমিনারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৮২টি শিশুর জন্ম হচ্ছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মারাত্মক জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটবে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়েই কেবল এই সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে তাদের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মহলকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়। বাংলাদেশের মতো একটি সীমিত সম্পদের দেশ দীর্ঘদিন ধরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বিশাল বোঝা বহন করে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দাবি রাখে।

পাঠকের মতামত